দিনাজপুরের ১০ দর্শনীয় স্থান
দিনাজপুর নয়াবাদ মসজিদ: মুগল স্থাপত্যের গোপন সৌন্দর্য
স্থান এবং লোকেশন
- নয়াবাদ মসজিদ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন-এর নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত।
- মসজিদটি ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে রয়েছে।
- জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
- মসজিদের জায়গা প্রায় ১.১৫ বিঘা।
ইতিহাস ও স্থাপত্য
- নির্মাণ সাল ও সময়
-
- মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টাব্দ ১৭৯৩ সালে, যা প্রবীণ ইতিহাস সম্পন্ন।
- ফলকে লেখা রয়েছে যে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর সময়।
- স্থানীয় জনশ্রুতি আছে যে মসজিদটি মূলত নির্মাণ করেছিলেন তারা স্থপতি যারা কান্তজিউ মন্দির (কান্তনগর মন্দির) নির্মাণে কাজ করছিলেন।
- মসজিদের জমি দান করেছিলেন এক হিন্দু জমিদার, যা আরও একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিকোণ।
- মসজিদ তিন গম্বুজবিশিষ্ট (three domes) স্টাইলের।
- চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির মিনার আছে।
- বাইরের দেয়াল অনেক পুরু — প্রায় ১.১০ মিটার পুরু।
- মসজিদের এক পাশ (পূর্ব দিকে) তিনটি প্রবেশদ্বার (খিলান) রয়েছে: মধ্য খিলান সবচেয়ে বড়, পাশের দুটি ছোট।
- জানালাগুলো উত্তর ও দক্ষিণ দিকে আছে, এবং এগুলো “multi-cusped” আকারে তৈরি করা হয়েছে।
- ভিতরে ** তিনটি মিহরাব** আছে; মাঝের মিহরাব সবচেয়ে বড়, পাশের দুটি একটু ছোট।
- দেয়াল ও গম্বুজ নকশায় টেরাকোটা (পোড়ামাটি) এবং ফুল, লতাপাতা ডিজাইনের ফলক ছিল, যদিও এখন বেশিরভাগ ফলক নষ্ট হয়ে গেছে।
- মসজিদের জমি দান করেছিলেন এক হিন্দু জমিদার, যা আরও একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিকোণ।
সংস্কার ও পর্যটন
- এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দিকে থেকে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত ও রক্ষাপ্রাপ্ত।
- মসজিদের পাশেই একটি মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে।
- মসজিদ এখন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অনেক দর্শনার্থী এখানে আসে।
গুরুত্ব / আকর্ষণীয় দিক
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: পুরনো মুসলিম স্থাপত্য ও স্থানীয় ইতিহাসের মিশ্রণ — এটি শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ইতিহাসপ্রেমীদের জন্যও আকর্ষণীয়।
- স্থাপত্য সৌন্দর্য: গম্বুজ, মিনার ও টেরাকোটা নকশা মসজিদকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।
- ভ্রমণ গন্তব্য: নদীর পাশবর্তী অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিরিবিলি জায়গা — পিকনিক বা শান্ত সময় কাটাতে ভালো।
দিনাজপুর কান্তজীউ মন্দির (Kantajew Temple) – বিস্তারিত তথ্য
পরিচিতি
- কান্তজীউ মন্দির বা কান্তনগর মন্দির দিনাজপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও শিল্পকর্মের নিদর্শন।
মন্দিরটির প্রতিটি দেয়াল টেরাকোটার নকশায় সাজানো, যেখানে রামায়ণ-মহাভারত, লোককথা, যুদ্ধ, নৃত্যসহ অসংখ্য গল্প নকশার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর টেরাকোটা স্থাপত্যগুলোর একটি।
ইতিহাস
- নির্মাণ করেন: দিনাজপুরের মহারাজা প্রণনাথ রায়
- নির্মাণকাল: ১৭২২ – ১৭৫২ (মোট ৩০ বছর)
- মন্দিরটি মূলত রাধা-কৃষ্ণ উপাসনার জন্য তৈরি
- একসময় এটি নয়টি চূড়া বিশিষ্ট (নবরত্ন) ছিল, কিন্তু ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সব চূড়া ধসে যায়
স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য
- সম্পূর্ণ ইমারতটাই টারাকোটা প্যানেলে আবৃত
- প্রায় ১৫,০০০-এর বেশি টেরাকোটা টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে
- মন্দিরটি তিনতলা কাঠামোর মতো দেখালেও এখন একতলাতেই ব্যবহারযোগ্য
- বাইরে-বাইরে বৃত্তাকার করিডোর আছে
- প্রতিটি দেয়ালে প্রচুর গল্পচিত্র—
- কৃষ্ণলীলা
- রামায়ণ
- যুদ্ধের দৃশ্য
- নৃত্য ও লোকসংস্কৃতি
- প্রাণী, ঘোড়া, হাতি এবং মানুষের বিভিন্ন চরিত্র
লোকেশন (Location)
- কান্তজীউ মন্দির অবস্থিত:
👉 কান্তনগর গ্রাম, কাহারোল উপজেলা, দিনাজপুর জেলা - দিনাজপুর শহর থেকে দূরত্ব: প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার
- যাতায়াত সময়: ৪০–৫০ মিনিট
- রুট: দিনাজপুর → শংকরপুর → কাহারোল → কান্তনগর মন্দির
🕒 ভিজিটিং সময়
- সকাল ৯:০০ – সন্ধ্যা ৬:০০
- সারা বছর খোলা
- শীতকালে পর্যটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
🎟️ টিকেট/প্রবেশ মূল্য
- বাংলাদেশি: ১০–২০ টাকা
- বিদেশি পর্যটক: আলাদা টিকেট
(স্থানভেদে কখনো আপডেট হতে পারে)
🌅 কখন গেলে সবচেয়ে সুন্দর লাগে
- সকাল সকাল
- অথবা বিকেলে golden hour–এ
- শীতকালে ফটোগ্রাফির জন্য সেরা সময়
📸 বিশেষ আকর্ষণ
- সম্পূর্ণ টেরাকোটা মন্দির
- দেয়ালের হাজারো কারুকাজ
- স্থাপত্যের ঐতিহ্যবাহী রূপ
- চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ
দিনাজপুর রাজবাড়ী (Dinajpur Rajbari) :দর্শন, ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড
ইতিহাস
- দিনাজপুর রাজবাড়ী ছিল এক সময় রাজা ও জমিদারদের বাসভবন।
- রাজবাড়ির জমিদারি ব্যবস্থা ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত East Bengal State Acquisition and Tenancy Act-এর পর বন্ধ হয়ে যায়।
- বিভিন্ন রাজা ও জমিদাররা রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশ তৈরি করেছেন — যেমন Aina Mahal, Rani Mahal, Thakurbari Mahal ইত্যাদি।

দিনাজপুর রাজবাড়ী: যেখানে সময় থমকে গেছে।
- Aina Mahal-এ একটি “Jalsa Ghar” বা বাদ্য ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থল ছিল।
- রাজবাড়িতে একটি লাইব্রেরি এবং ধনখানা (Toshakhana) ছিল।
- জমিদারদের অতিপূর্ব জিনিসপত্র বিক্রি করা হয় এবং অনেক অংশ ধ্বংসের পথে রয়েছে।
স্থাপত্য ও গঠন
- রাজবাড়ী তিনটি প্রধান “মহল” (block) নিয়ে গঠিত: — Aina Mahal, Rani Mahal, এবং Thakur Bari Mahal।ভেতরে বিভিন্ন সাহায্যকারী বিল্ডিং ছিল — যেমন কুমার মহল, আটচালা ঘর, লক্শ্মীর ঘর, আতুর ঘর ইত্যাদি।
- রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে মন্দিরও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কালিয়া জিউ মন্দির রাজবাড়ীর অংশ।
- রাজবাড়ীর এলাকা প্রায় ১৬.৪১ একর (acre) জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
- রাজবাড়ীর বিশাল প্রাঙ্গণে দীঘি (পুকুর), বাগান এবং অন্যান্য দালান ছিল।
- প্রাসাদের প্রবেশদ্বার হিসেবে দুটি বড় ফ্যাসাড রয়েছে — একটিকে “Lion Gate” বলা হয়।
অবস্থা ও গুরুত্ব
- বর্তমানে দিনাজপুর রাজবাড়ীর অনেক অংশ ধ্বংসপ্রায়, এবং অনেক ভবন ভাঙাচোরা অবস্থা।
- এটি স্থানীয়ভাবে “রাজবাটি” নামে পরিচিত।
- রাষ্ট্রিকভাবে এটি সেরকম রক্ষণাবেক্ষণ পাচ্ছে না, ফলে ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলেও অবক্ষয় সমস্যা রয়েছে।
- কিছু পুরাতন রাজকীয় জিনিসপত্র (যেমন আসবাবপত্র, সিলভার অস্ত্র) জাতীয় জাদুঘর বা স্থানীয় মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।
সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ
- রাজবাড়ীর সাথে যুক্ত আছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং উৎসব, যেমন Kantaji মন্দিরের Rash Mela — ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি প্রতীকী স্থান।
- রাজবাড়ীর মন্দির এবং প্রাসাদ ভবন স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য আর্কিটেকচারাল আকর্ষণ।
অবস্থান (Location)
- দিনাজপুর রাজবাড়ী দিনাজপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত।
- সুনির্দিষ্টভাবে, এটি প্রায় ফুলবাড়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে ১ কিমি উত্তরে এবং Chirirbandar লিংক রোড ও Panchagarh‑Thakurgaon হাইওয়ের কাছেই আছে।
- প্রবেশদ্বার পশ্চিম দিকে মুখ করে এবং ভিতরে ঢোকার জন্য একটি বড় আর্ক গেট রয়েছে।
দিনাজপুর রামসাগর দিঘি” সম্পর্কে বিস্তারিত
অবস্থান (Location)
- রামসাগর দিঘি দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে (Tajpur, Dinajpur) অবস্থিত।
- এটি দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে।
- দিঘিটি ঘিরে হলো রামসাগর জাতীয় উদ্যান (Ramsagar National Park)।
- ভৌগোলিক নির্দেশাঙ্ক (প্রায়): (উদ্ধৃত মান) IUCN ডকুমেন্টে 25°33′N, 88°37′30″E উল্লেখ আছে।

দিনাজপুর রামসাগর দিঘি দৃশ্য, সুন্দর লেক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ
ইতিহাস ও উৎপত্তি
- রামসাগর দিঘি তৈরির পেছনে ছিল রাজা রামনাথ।
- এটি খনন করা হয়েছিল ১৭৫০-এর দশকে (প্রায় ১৭৫০‑১৭৫৫)।
- ঐতিহাসিকভাবে এটি পানির অভাব ও খরার সমস্যার সমাধান হিসেবে খনন করা হয়েছিলো।
- কাহিনী (লোককথা) অনুযায়ী, রাজা স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে দিঘিটি তৈরি করান। আবার একটি অন্য গল্প বলছে, রাজা স্বপ্নে দেখেন যে তাঁর একমাত্র ছেলে “রাম”কে দিঘিতে উৎসর্গ করলেই পানি উঠবে, এবং তারপরই দিঘিটি জল দিয়ে পূর্ণ হয়।
- এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক এতে কাজ করেছিলেন এবং খননে ব্যয় হয়েছিল প্রাচীন সময়ে প্রায় ৩০,০০০ টাকা।
আকার ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
- দিঘির দৈর্ঘ্য বনাম প্রস্থ: ** উত্তর–দক্ষিণে ~ 1,079 মিটার**, এবং পূর্ব–পশ্চিমে ~ 192.6 মিটার।
- গভীরতা: প্রায় ৯.৫ মিটার (অনেকে প্রায় ১০ মিটার বলছেন)।
- দিঘির পাড় ধূলিমাটি বা মাটি‑টিলা দিয়ে ঘেরা, যা একটি নীরব, গ্রামীণ দৃশ্য তুলে ধরে। পাড়ে ছিল পাথরের ঘাট (wharf) — একটি বড় ঘাট ছিল পশ্চিম পাড়ে, যা এখনও কিছু অংশে রয়ে গেছে।
নাম ও জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি
- দিঘির নাম “রামসাগর” এসেছে রাজা রামনাথ-এর নামে।
- ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল রামসাগর দিঘি ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা “রামসাগর জাতীয় উদ্যান” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- জাতীয় উদ্যানের আয়তন প্রায় ২৭.৭৫ হেক্টর।
প্রাকৃতিক এবং পর্যটন আকর্ষণ
- দিঘির চারপাশে রয়েছে অনেক গাছ — যেমন ঝাউ, মুছকে গাছ, দেবদারু, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছ দেখা যায়।
- পিকনিকের জন্য দারুণ জায়গা: ভ্রমণকারী দিঘির পাড়ে হাঁটতে পারে, বিশ্রাম নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।
- রাতের আকাশ, পূর্ণিমার আভায় দিঘি একটি শান্ত এবং মনোরম পরিবেশ হয়ে ওঠে।
- দিঘিতে আকর্ষণ হিসাবে রয়েছে পুরনো ঘাট, পাথরের স্ল্যাব এবং কিছু অবশিষ্ট ঘাট কাঠামো।
- জাতীয় উদ্যান হওয়ায় বন্যজীবু উপাদান কিছুটা থাকে, যদিও বড় বনে পরিণত নয় — মাটির ধরন লাল‑হলুদ মাটি যা বন বিভাগের রিপোর্টে আছে।
আকর্ষণীয় কিংকর্তব্য দৃষ্টিকোণ (Myth & Popular Stories)
- বরাবরের মতোই এক জনপ্রিয় কাহিনী হলো: রাজা স্বপ্নে দেখেন যে তাঁর ছেলে “রাম”কে উৎসর্গ করা হলে দিঘিতে পানি উঠবে — এবং সেই অনুযায়ী দিঘি তৈরি হয়।
- আরেকটি ইতিহাস বলছে যে এটি মূলত জনমুখে প্রচলিত পানির সংকট কাটাতে এবং কৃষি কাজে সেচ নিশ্চিত করতে খনন করা হয়েছিলো।
ভ্রমণ‑গাইড টিপস (Tourist Tips)
- দিনাজপুর থেকে অটো বা রিকশায় রামসাগর দিঘিতে যাওয়া যায়।
- দিঘির পাড়ে হাঁটার পথ রয়েছে, তাই সকালে বা সন্ধ্যায় ঘোরার জন্য সময় উপযুক্ত।
- ক্যাম্পিং করার জন্য কিছু পর্যটক এখানে আসেন, বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে।
- ছবি তোলার দিক দিয়ে দিঘি বেশ উপযুক্ত — শান্ত জল, গাছপালা এবং প্রাকৃতিক প্রতিফলন ফটোগ্রাফি‑প্রেমীদের জন্য আকর্ষণ।
- নিরাপত্তা ও পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা যাচাই করে যাওয়া ভালো — বিশেষ করে পিকনিক করা হলে।
সুখ সাগর (Suk Sagar) ইকোপার্ক – বিস্তারিত তথ্য
- নাম: সুখ সাগর ইকোপার্ক (Sukh Sagar Eco Park)
- অবস্থান: দিনাজপুর শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২ কিলোমিটার, রাজবাটী এলাকায়।
- ঠিকানা (Union): ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়ন, দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর জেলা। আয়তন: প্রায় ২২.৪৪ একর
- অর্থায়ন: সুখসাগর ইকোপার্ক প্রকল্পে খরচ ছিল ১,৪৮,৫২,০০০ টাকা (প্রায় এক কোটি আশি লক্ষ টাকা)।
- উদ্দেশ্য / গুরুত্ব:

সুখ সাগর, দিনাজপুর: একটি শান্তিপূর্ণ প্রাকৃতিক দিঘি যেখানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো যায়।
-
- জনসাধারণের জন্য পিকনিক এবং পর্যটন স্থান তৈরি করা হয়েছে।
- পাখির অভয়াশ্রম (bird sanctuary) হিসেবে কাজ করে – জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
- ইতিহাস: রাজবাড়ির পেছনে অবস্থিত Suk Sagar দিঘি। এটি রাজা সুকদেবের নামে তৈরি একটি পুরনো দিঘি।
- পরিবহন:
- দিনাজপুর সদর থেকে ইজিবাইক বা রিকশা নিয়ে যাওয়া যায়।
- প্রবেশপথ রাজবাড়ির পেছন দিক থেকে।
- পর্যটকরা বলেছে: “পরিবেশ শান্ত, দিঘি বিশাল” এবং পরিবার / বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ভালো জায়গা।
- রেটিং: প্রায় 4.3 / 5 (Top‑Rated.online)
দিনাজপুর স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট – বিস্তারিত তথ্য
অবস্থান
- স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট (Shopnopuri Artificial Amusement Park) দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ (Aftabganj) উপজেলায় অবস্থিত।
- মাপ: প্রায় ৪০০ একর জমি জুড়ে রয়েছে এই বিনোদন পার্ক।
- শহর থেকে দূরত্ব: দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
আকর্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা
স্বপ্নপুরীতে শুধু পিকনিক স্পটই নয় — এখানে রয়েছে:
- কৃত্রিম লেক, পাহাড়, এক সুন্দর উদ্যান এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ, ফুলের বাগান।
- ভাস্কর্য / প্রতিকৃতি: বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য আছে — যেমন ডাইনোসর।
- চিড়িয়াখানা: মিনি চিড়িয়াখানা আছে।

স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করুন – বাংলাদেশের দিনাজপুরে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট।
- রাইডস ও বিনোদন: পার্কে ছোট রাইডস, জাদু গ্যালারি (‘মহা মায়া ইন্দ্রজাল’) এবং আর্ট গ্যালারি (‘রংধনু’) আছে।
- অন্যান্য আকর্ষণ: কৃত্রিম ঝর্ণা, ইটখোলা, ঘোড়ার রথ, শালবাগান, হংসরাজ সাম্পান, নামাজ করার জায়গা, মাটির কুঁড়েঘর, ডাকবাংলো, এমনকি ভূমিতে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করা আছে।
- রাতের জন্য কটেজ: “সন্ধ্যাতারা”, “নীলপরী”, “নিশিপদ্ম”, “রজনীগন্ধা” ও “ভিআইপি কুঞ্জ” নামে মোট ৫টি কটেজ আছে রাত্রি যাপনের জন্য।
প্রবেশ মূল্য ও যোগাযোগ
- প্রবেশ টিকেট: সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশ মূল্য ~ ১০০ টাকা।
- যোগাযোগ: ফোন নম্বর 0531‑63711 (দিনাজপুর-এর হোটেল কণিকা হিসেবে উল্লেখ) রয়েছে।
- যাতায়াত: দিনাজপুর থেকে বাস বা সিএনজি ভাড়া করে যেতে পারা যায়।
সাম্প্রতিক খবর / বিষয়
- ২০২৫ সালে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানায় ৭৪টি বন্যপ্রাণী আইনবিরুদ্ধভাবে রাখা ছিল এবং তা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
- পার্ক পুনরায় খুলছেন খবর আছে (প্রবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে)।
নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান দিনাজপুর – বিস্তারিত তথ্য
অবস্থান
- নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান (Nawabganj National Park) দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ (Nawabganj) উপজেলাতে অবস্থিত।
- উদ্যানটি নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর শহর থেকে প্রায় 1 কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
- ভৌগলিক কোঅর্ডিনেটস: প্রায় 25.45175°N, 89.05349°E।
আয়তন ও গঠন
- পুরো পার্কের আয়তন প্রায় ৫১৭.৬১ হেক্টর।
- স্থানীয়ভাবে এটি “পঞ্চবটীর বন” নামেও পরিচিত।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, দিনাজপুর: শান্ত বন ও প্রকৃতির মাঝে অবিস্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
- উদ্যানটি বেশ কিছু মৌজা (গ্রাম মাপ) নিয়ে গঠিত: যেমন — জগন্নাথপুর, হরিল্যাখুর, বড় জালালপুর, আলোকধুতি, তর্পনঘাট, রসুলপুর ও খটখটিয়া কৃষ্টপুর।
প্রকৃতি ও বায়বিজ্ঞান
- বনটি শালবন (Shorea robusta) প্রধান গাছ দ্বারা গঠিত।
- এছাড়া এখানে গাছের অন্যান্য প্রজাতি রয়েছে, যেমন গামেলিনা (Gmelina arborea), ইউক্যালিপটাস, জাম (Syzygium cumini), অ্যাকেশিয়া ও কিছু অর্কিড প্রজাতিও আছে।
- প্রাণিজগত: উদ্যানে রয়েছে শিয়াল, বন বিড়াল (jungle cat), মাছ বিড়াল (fishing cat) এবং বিভিন্ন সাপ।
- পাখি (বিরল বা অতিথি পাখি) প্রতিও দেখা যায়, বিশেষ করে সিজনাল ভ্রমণকালে।
ইতিহাস
- ২৪ অক্টোবর, ২০১০ সাল-এ সরকার এই এলাকায় জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়।
- “পঞ্চবটীর বন” হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিমধ্যেই পরিচিতি ছিল।
- উদ্যানটি শুধু বন্যজীবন সংরক্ষণের জন্যই নয়, পর্যটন উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পেয়েছে।
পিকনিক ও দর্শনীয়তা
- বনে হাঁটার পথ (nature walk) আছে, যা প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য উপযুক্ত।
- আশুরার বিল: উদ্যানের মধ্যে একটি বিল রয়েছে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলজ জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
- কাঠের সেতু: বিলের ওপর একটি দীর্ঘ কাঠের সেতু রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য ।পর্যটকরা ছবি তুলতে, পাখি দেখার (বার্ডওয়াচিং), এবং শান্ত সময় কাটাতে এখানে আসে, বিশেষ করে বসন্তে।
জুড়ে দেওয়া সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন
- ২০২২ সালে জাতীয় উদ্যানের উন্নয়নের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
- বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটন সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে। চলাচলের উপায় (যানজট) ও নির্দেশিকা
- দিনাজপুর শহর থেকে নবাবগঞ্জে যাওয়া যায় বাস বা রিকশা/অটো রিকশা দ্বারা।
- রাজধানী ঢাকার থেকে দিনাজপুরগামী বাস রয়েছে, কিংবা ট্রেনেও যাওয়া যায়।
- উদ্যানের ভেতর ভালোভাবে প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য শান্ত সময় (সকাল বা সন্ধ্যা) বেছে নেওয়া ভালো।
চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা
- কিছু প্রতিবেদনে বলেছে আশুরা বিল এবং উদ্যান এলাকা ভূমিদস্যুদের দখলে।
- সংরক্ষণের কাজ থাকলেও পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং রক্ষা ব্যবস্থার দরকার রয়েছে, বিশেষ করে বন ও জলাভূমি পরিবেশ সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে।
দিনাজপুর লিচু বাগান (Dinajpur Lichu Bagan) — বিস্তারিত তথ্য
সার্বিক ভূমিকা
-
- দিনাজপুর জেলা “লিচু জেলা” হিসেবে পরিচিত কারণ এখানে প্রচুর লিচু উৎপাদিত হয় এবং লিচু বাগানের আয়তন অনেক।
- স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনাজপুরে হাজার‑হাজার হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে।

দিনাজপুরের লিচু বাগান, যেখানে পাওয়া যায় দেশের সুস্বাদু লিচু
লিচুর প্রকার ও জনপ্রিয়তা
- দিনাজপুরে চাষ করা হয় বিভিন্ন প্রকার লিচু — বোম্বাই, বেদানা, মাদ্রাজি, চায়না-৩, কাঁঠালি ইত্যাদি।
- বেদানা লিচু বিশেষভাবে জনপ্রিয়, এবং জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এর গুণগত মান এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
- লিচু ফলন ও বাণিজ্য দিনাজপুরে অর্থনৈতিকভাবে একটি বড় উৎস — প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লিচু স্থানীয় এবং জাতীয় বাজারে যায়
ভৌগলিক অবস্থা (অবস্থান)
- দিনাজপুর জেলায় লিচু বাগান রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে, যেমন সদর, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, বিরল, খানসামা, নবাবগঞ্জ ইত্যাদি।
- জেলার মাটির ধরন ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এক–সরকারি ব্র্যান্ডিং বই বলেছে, দিনাজপুরের মাটি এবং জলবায়ু লিচু চাষের দিক থেকে খুবই উপযোগী।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব
- লিচু চাষ দিনাজপুরে কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক উৎস। এক অধ্যয়নে দেখা গেছে, লিচু চাষ অর্থনৈতিকভাবে চাষির জন্য উপকারী।
- মৌচাষ (বীজ মৌমাছি) এবং মধু আহরণের জন্য লিচু বাগান ব্যবহার হচ্ছে।
- লিচু চাষ এবং বিক্রয় স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পিক মজুদ মৌসুমে।
চ্যালেঞ্জ ও পরিবেশনাপ্রতিকূলতা
- আবহাওয়ার দাপট (যেমন অতিরিক্ত গরম বা বৃষ্টিপাত) লিচু উৎপাদনে প্রভাব ফেলে।
- লিচু বিক্রির সময় দামে ওঠানামা দেখা যায়, যা চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দিনাজপুর দীপশিখা মেটি স্কুল :শিশুদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ
নাম ও পূর্ণরূপ
- নাম: দীপশিখা মেটি স্কুল (Dipshikha Meti School)
- “মেটি” = Modern Education & Training Institute।
- এটি দীপশিখা নামে NGO দ্বারা পরিচালিত।
অবস্থান
- স্কুলটি দিনাজপুর জেলার বিরল (Birol) উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে অবস্থিত।
- ঠিকানামান ভিত্তিতে: “Rudropur, Birol, Dinajpur”।
ইতিহাস ও স্থাপত্য
- স্কুলটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
- ভবনটি তৈরি করা হয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে — মাটি, খড়, বাঁশ, দড়ি ইত্যাদি।
- এটি ২০০৫ সালে নির্মাণ শুরু হয় এবং পরে “হ্যান্ডমেড স্কুল” হিসেবে বিকশিত হয়।

দিনাজপুর দীপশিখা মেটি স্কুল: শিশুদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ
- আর্কিটেক্টরা: আন্না হেরিঙ্গার (Anna Heringer) এবং আইকে রোউয়ার্গ (Eike Roswag)।
- শিক্ষার্থীদের জন্য নান্দনিক ও স্বাস্থ্যসমর্থনযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে — গরম ও শীত উভয় সময়েই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত অনুভূতি দেয়।
- স্কুলটি ২০০৭ সালে “আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছে।
আয়তন ও কাঠামো
- পুরো স্কুল ভবন প্রায় ৮,০০০ বর্গফুট।
- এটি দোতলা: নিচের তলায় তিনটি কক্ষ, উপরের তলায় বাঁশের সিঁড়ি দিয়ে যাওয়া যায়।
- দেয়াল: নিচের অংশে মাটি ও খড় মেশানো “কাদা” ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কার্যকলা
প্রতিবন্ধীদের জন্যও থেরাপি সেন্টার আছে এবং নারীদের শৈল্পিক শিক্ষার জন্যও কার্যকলাপ চলছে।
দর্শনীয়তা
-
-
- স্থাপত্যগত কারণে এটি বাড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা।
- বহু পর্যটক এখানে স্থাপত্য, টেকসই নির্মাণ এবং গ্রাম‑প্রকৃতির সমন্বয় উপভোগ করতে আসে।
-
পরিবেশগত প্রভাব ও টেকসইতা
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (HSTU) — বিস্তারিত
রাস্ট্রীক পরিচয় ও প্রথমিক তথ্য
- নাম: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Hajee Mohammad Danesh Science & Technology University, সংক্ষেপে HSTU)
- ধরণ: সরকারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সুন্দর সবুজ ক্যাম্পাস।
- প্রতিষ্ঠাকাল: মূলত ১৯৭৯ সালে একটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হিসেবে (AETI), ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত।
- ক্যাম্পাস: প্রায় ১৩৫ একর জমির মনোরম ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
অবস্থান
- শহর: দিনাজপুর, রংপুর বিভাগ, বাংলাদেশ।
- ঠিকানা: Basherhat, Dhaka – Dinajpur Highway, Dinajpur-5200, Bangladesh।
- ভৌগোলিক অবস্থান: শহর থেকে প্রায় ১৩ কিমি উত্তরে, ঢাকা–দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে।
ইতিহাস
- প্রাথমিক অবস্থায় একটি Agricultural Extension Training Institute (AETI) হিসেবে চালু হয়েছিল।
- পরে এটি “হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ” হিসেবে উন্নীত হয় (১৯৮৮)।
- পরবর্তীতে (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯) এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় আইনগতভাবে গেজেটে ঘোষণা করা হয়েছিল: ৮ এপ্রিল ২০০২ তে একটি অফিসিয়াল গেজেট নোটিশ দিয়ে।
অর্জন ও শ্রেণিবিভাগ
- এটি উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
- এখানে অনেক ফ্যাকাল্টি রয়েছে: কৃষি, কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসায় STEM বিভাগ, মৎস্যবিজ্ঞান, পশু বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ইত্যাদি।
- প্রায় ৪৪–৪৫টি বিভাগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- শিক্ষার্থীর সংখ্যা: আনুমানিক ১১,000+ স্টুডেন্ট রয়েছে।নামকরণের কারণ
- বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ-এর নামে, যিনি তেভাগা আন্দোলনের নেতা ছিলেন এবং কৃষক‑পক্ষপাতে সক্রিয় ভূমিকা নেন।
অতিরিক্ত তথ্য
- ক্যাম্পাসে বাহিরে প্রাকৃতিক সবুজ এবং শান্ত পরিবেশ রয়েছে, যা পড়াশোনার জন্য অনুকূল।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে এবং অনেক বিভাগে উচ্চ মানের প্রযুক্তিগত এবং কৃষি‑গবেষণা করা হয়।
- বিদেশী শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়েন — বিভিন্ন দেশের ছাত্ররা HSTU তে আসে।মিডিয়া এবং প্রকাশনা: HSTU-র “Journal of Science and Technology” নামে নিজস্ব জার্নাল রয়েছে।
- ভিসি: বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস‑চ্যান্সেলর হচ্ছেন Mohammed Enamullah।
ভর্তি তথ্য (সম্প্রতিক)
- ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে — ২৬, ২৭, ২৮ জানুয়ারি তারিখে পরীক্ষা।
- আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা বিস্তারিত ভর্তি তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ফরম থেকে দেখতে পারে।
⭐ দিনাজপুরের ৬ সাগর :ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলন
- “দিনাজপুরের ৬ সাগর” বলতে এমন ছয়টি পুরাতন দিঘি (লেক) বোঝানো হয়ে থাকে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে “সাগর”

ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলন
- বলা হয়। প্রচলিত ছয়টি সাগরের নাম এবং তাদের তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| সাগরের নাম | অবস্থান ও বর্ণনা |
| রামসাগর (Ramsagar) | – দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রাম-এ অবস্থিত।
– দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১,০৩১ মিটার, প্রস্থ ~৩৬৪ মিটার। – এটি একটি মানবসৃষ্ট দিঘি, যা রাজা রামনাথের আমলে খনন করা হয়। – এই দিঘি এখন “Ramsagar National Park”–এর অংশ। |
| সুখসাগর (Sukh Sagar) | – রাজবাড়ি (Dinajpur Rajbari) এলাকায় অবস্থিত। – চারদিকে শাল ও আকাশমণি গাছ; নৈসর্গিক পরিবেশ এবং স্বচ্ছ পানি রয়েছে। – শীতকালে অতিথি পাখি আসে, পাখি দেখার জন্য আকর্ষণীয়। |
| মাতাসাগর (Matasagar) | – রাজবাড়ি (রাজবংশ) সংলগ্ন এলাকায়; সুখসাগরের উত্তরে অবস্থিত।
– প্রায় ৪৬ একর জমি জুড়ে আছে এই দিঘি। – নামকরণ হয়েছে “মাতা (মায়ের)” নামে — এটি রাজবংশের একর মা‑ব্যক্তির নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে। |
| আনন্দসাগর (Anandasagar) | – দিনাজপুর শহরের কাছে, মেডিকেল কলেজের উত্তরে অবস্থিত।
– আয়তন: আনুমানিক ৭ একর। – কথিত আছে, রাজা রামনাথ তার রানি (স্বরসতী বা আনন্দময়ী)‑কে নিয়ে নৌবিহার করতেন এবং এই দিঘিটি তাদের আনন্দের প্রতীক হিসেবে নামকরণ করা হয়েছিল। |
| পদ্ম সাগর (Padma Sagar) | – দিনাজপুর রাজবাড়ির ভেতরে অবস্থিত ছোট দিঘি। – কিছু প্রতিবেদনে বলা হয় এটি “পদ্ম পুকুর” এবং রাজবাড়ির নারীদের ব্যবহারের জন্য ছিল। |
| জুলুমসাগর (Zulum Sagar) | – ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি দিঘি, এবং নাম “জুলুম” এসেছে জনশ্রুতি অনুযায়ী কারণ ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে মানুষের প্রতি নির্যাতন হয়েছিল। – জুলুমসাগরের পাড়ে স্থানীয়রা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে চাচ্ছে। |
- এই স্থানগুলো দিনাজপুরের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরে, যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।
- আরো জানতে – >>> দিনাজপুর শহরের যাবতীয় তথ্য পেতে আমরা আছি আপনার সাথে