হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
01744745405 10/31/2024 No Comments
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষেপে হাবিপ্রবি) বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের বাঁশেরহাট এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি স্থানীয়ভাবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।

ইতিহাস
ইতিহাস
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। সে সময় এটি এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (AETI) নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করত।
পরবর্তীতে, ১১ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে এটি একটি স্নাতক পর্যায়ের কৃষি কলেজে উন্নীত হয়। তখন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে।
এরপর, ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে এই দিনটি “বিশ্ববিদ্যালয় দিবস” হিসেবে উদযাপিত হয়।
এছাড়া, ২০০০ সালে “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়। ৮ জুলাই ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয় এবং ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অবশেষে, ১৬ এপ্রিল ২০০২ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসাইন মিঞা।
বর্তমানে, উত্তরবঙ্গের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে হাবিপ্রবি ৯টি অনুষদের অধীনে ২২টি স্নাতক এবং ২৮টি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে শিক্ষা প্রদান করছে। এখানে ইংরেজি মাধ্যমে কোর্স-ক্রেডিট-সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পাস
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশ দিয়ে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অতিক্রম করেছে। এটি দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে।

এছাড়া, ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে সবুজ গাছপালা, দৃষ্টিনন্দন লাল-সাদা ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জিমনেসিয়াম, টিএসসি এবং ক্যান্টিন। মনোরম পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ৫টি একাডেমিক ভবন এবং একটি প্রশাসনিক ভবন।
পাশাপাশি, এখানে ৫টি ছাত্র হল (একটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য), ৩টি ছাত্রী হল, ১০০ আসনের একটি ভিআইপি সেমিনার কক্ষ এবং ৬০০ ও ২৫০ আসনের দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়াম রয়েছে।
এছাড়াও, শিক্ষক-কর্মকর্তা ক্লাব, ২টি মসজিদ, ১৩৬টি আবাসিক ইউনিট, শিশুপার্ক, পোস্ট অফিস, রূপালী ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের শাখা, শ্রমিক ব্যারাক এবং সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ লাইন, বড় খেলার মাঠ, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও রয়েছে।
গবেষণার সুবিধা বাড়াতে, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (IRT) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া, ভিআইপি গেস্ট হাউস, হাবিপ্রবি স্কুল, ১২ শয্যার মেডিকেল সেন্টার, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরিও রয়েছে।
সবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন ও জার্মপ্লাজম সেন্টার রয়েছে। এখানে বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদের সংগ্রহ সংরক্ষণ করা হয়।
লাইব্রেরি
কার্যক্রম এবং সুবিধা:

লাইব্রেরি
কার্যক্রম ও সুবিধা
এইচএসটিইউ লাইব্রেরি একটি সুসজ্জিত বহুতল ভবন। প্রথমত, এখানে অধিগ্রহণ, সার্কুলেশন, প্রক্রিয়াকরণ, রেফারেন্স এবং প্রশাসনিক বিভাগসহ বিভিন্ন শাখা থেকে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এছাড়া, অধিগ্রহণ বিভাগ ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই, জার্নাল ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করে। ফলে, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই খুঁজে পান।
পাশাপাশি, লাইব্রেরির নিচতলায় সার্কুলেশন বিভাগ রয়েছে। এখান থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা নির্ধারিত নিয়মে বই ধার নিতে পারেন। সাধারণভাবে দুই কপির বেশি থাকা বই ঋণের জন্য উপলব্ধ থাকে।
অন্যদিকে, প্রক্রিয়াকরণ বিভাগ AACR-2 কোড এবং DDC পদ্ধতি অনুসরণ করে বই ও অন্যান্য নথির ক্যাটালগ এবং শ্রেণিবিন্যাস সম্পন্ন করে। এর ফলে, গ্রন্থাগারের সংগ্রহ সুসংগঠিত থাকে।
তাছাড়া, রেফারেন্স বিভাগ ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। এখানে শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা দুর্লভ বই, থিসিস ও গবেষণাপত্র পড়তে পারেন। এছাড়াও, স্বল্প খরচে ফটোকপি সেবা এবং নতুন প্রকাশনার তথ্য সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে, লাইব্রেরিতে ৭৩টি দেশি-বিদেশি জার্নাল, ১৫টি দৈনিক পত্রিকা এবং বিভিন্ন থিসিস সংরক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি সাইবার সেন্টারও রয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
মিশন
লাইব্রেরির মূল লক্ষ্য হলো গবেষণা, শিক্ষাদান এবং শেখার কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা। এছাড়া, ব্যবহারকারীদের জন্য আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
দৃষ্টি
লাইব্রেরির লক্ষ্য একটি বিশ্বমানের নলেজ রিসোর্স সেন্টার হিসেবে গড়ে ওঠা। পাশাপাশি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে গবেষণা, শিক্ষাদান এবং শেখার পরিবেশকে আরও কার্যকর ও উদ্ভাবনী করা এর অন্যতম অঙ্গীকার।
লাইব্রেরির সময়সূচি
লাইব্রেরি প্রতিদিন সকাল ৮:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ছুটির দিনে লাইব্রেরি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
উপাচার্যগণ
নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে, অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামউল্যা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
| ক্রম | নাম | দায়িত্ব গ্রহণ | দায়িত্ব হস্তান্তর |
|---|---|---|---|
| ১ | অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন মিঞা | — | — |
| ২ | অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন মণ্ডল | — | — |
| ৩ | অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন | ২০০৭ | ২০০৮ |
| ৪ | অধ্যাপক এম. আফজাল হোসেন | ২০০৮ | ২০১২ |
| ৫ | অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ |
| ৬ | অধ্যাপক মু. আবুল কাসেম | ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |
| ৭ | অধ্যাপক এম. কামরুজ্জামান | ৩০ জুন ২০২১ | ৯ আগস্ট ২০২৪ |
| ৮ | অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামউল্যা | ২৩ অক্টোবর ২০২৪ | বর্তমান |
একাডেমিক কার্যক্রম
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান পরিচালিত হয়, যেখানে প্রতি সেমিস্টার ২১ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়। ক্লাস ও পরীক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদক ও বৃত্তির সুযোগ। একাডেমিক কার্যক্রম বছরে ২টি সেমিস্টারে ক্রেডিট পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
অনুষদ ও ডিসিপ্লিন সমূহ
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের অধীন ২৩টি স্নাতক ডিগ্রী এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের অধীন ৩২টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করে।
স্নাতকোত্তর ডিসিপ্লিন সমূহ
- কৃষি অর্থনীতি
- উদ্যানবিদ্যা
- মৃত্তিকাবিজ্ঞান
- পতঙ্গবিজ্ঞান
- উদ্ভিদ রোগবিদ্যা
- জিনতত্ত্ব এবং উদ্ভিদ প্রজনন
- ফসল শারীরবিদ্যা এবং বাস্তুবিদ্যা
- কৃষি সম্প্রসারণ
- কৃষি রসায়ন
- কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ
- পরিসংখ্যান
- গণিত
- জৈব রসায়ন এবং জৈবাণুবিজ্ঞান
- মৎস্য জীববিজ্ঞান ও জিনতত্ত্ব
- মৎস্য ব্যবস্থাপনা
- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ
- খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি
- খাদ্য বিজ্ঞান ও পুষ্টি
- জৈবাণুবিজ্ঞান
- রোগবিদ্যা ও পরজীববিদ্যা
- ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান
- অঙ্গব্যবচ্ছেদবিদ্যা ও জীবদেহের তন্তুবিন্যাসবিদ্যা
- সাধারণ প্রাণী বিজ্ঞান ও পুষ্টি
- জিনতত্ত্ব এবং পশু প্রজনন
- চিকিৎসা, শল্য এবং ধাত্রীবিদ্যা
- শারীরবিদ্যা ও ঔষধসংক্রান্ত বিজ্ঞান
- ব্যাবস্থাপনা
- অর্থশাস্ত্র
- অর্থনীতি
- বিপণন
- হিসাবরক্ষণ
- ফার্ম পাওয়ার এন্ড মেশিনারিজ
- ইরিগেশন এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট
- ইংরেজি
- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল
- ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল
স্নাতক ডিসিপ্লিন সমূহ
প্রকৌশল অনুষদ
- খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল
- কৃষি প্রকৌশল
- স্থাপত্যবিদ্যা
- পুরকৌশল
- যন্ত্রকৌশল
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ
- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল
- ইলেক্ট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল
- তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
- মার্কেটিং
- একাউন্টিং
- ম্যানেজমেন্ট
- ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
কৃষি অনুষদ
এগ্রিকালচার
মৎস্য অনুষদ
ফিসারিজ
ভেটেরিনারি এবং প্রাণী অনুষদ
ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন
বিজ্ঞান অনুষদ
- পদার্থবিদ্যা
- রসায়ন
- গণিত
- পরিসংখ্যান
সামাজিকবিজ্ঞান ও কলা অনুষদ
- ইংরেজি
- অর্থনীতি
- সমাজবিজ্ঞান
- ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
ইন্সটিটিউট
IRT, HSTU
আবাসন
ছেলেদের হল
- শেখ রাসেল হল
- শেখ রাসেল হল (সম্প্রসারিত)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হল (ডরমিটরি-২)
- তাজউদ্দীন আহমেদ হল
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
মেয়েদের হল
- শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হল
- কবি সুফিয়া কামাল হল
- আইভি রহমান হল
- শেখ সায়েরা খাতুন হল
বিদেশি শিক্ষার্থীদের হল
ইন্টারন্যাশনাল হল (ডরমিটরি-২ হলের একটি অংশ নিয়ে গঠিত)
দিনাজপুর সম্পর্কে আরও জানুন->>>